ডেক্স নিউজঃ
সংবিধানের ৭০ খ ধারা বাতিল করতে হবে, যে সংসদে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন না, সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা অসম্ভব - অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা, প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আন্তর্জাতিক “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ.
গত ১৪ জুন, রবিবার, যুক্তরাজ্য সময় বিকাল ৫টায় আন্তর্জাতিক “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব ও প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের ইউরোপীয় নেতা জনাব ফারুক আহমেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল আন্দোলনের উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব মেজর আনিসুর রহমান, মেজর ইমরান মিয়া, লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা, ইয়াসমিন রহমান বকুল, তানজিনা জাহান, হাকিকুল ইসলাম খোকন, এস এম আব্দুস সাত্তার, ফারুক আহমেদ চৌধুরী, রেয়াজ আবু সাইদ, ড. শরিফ শাকী, ইসমাইল খান, জগলু আহমেদ প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে সভায় উপস্থিত থাকতে না পারলেও শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন আনোয়ার সাজন, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, ব্যারিস্টার তারিক (লন্ডন), মোঃ মতিউর রহমান (ডার্লিংটন, যুক্তরাজ্য), আলহাজ্ব নির্জাস মিয়া (নিউক্যাসল, যুক্তরাজ্য) এবং ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, লন্ডন, যুক্তরাজ্য, সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যে জনাব ফারুক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ ধারা একটি অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক বিধান। তাঁর মতে, এই ধারা সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে এবং কার্যত সংসদীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্রের প্রতি একটি হুঁশিয়ারি এবং অনেকাংশে গণতন্ত্র হত্যার শামিল। বর্তমান বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা নেই; বরং একটি স্থিতিশীল সরকার ও কার্যকর বিরোধী দল রয়েছে। তাই ৭০ ধারা বহাল রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, “যে জাতীয় সংসদে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারেন না, সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা অত্যন্ত কঠিন। সংবিধানের ৭০ ধারা অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মতামত প্রদান বা ভোট দিলে তার সদস্যপদ শূন্য হয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি একটি বড় হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট জাতীয় ইস্যুতে স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ৭০ ধারা সংসদ সদস্যদের কার্যত দলীয় নির্দেশনার বাইরে চিন্তা করার সুযোগ not। বর্তমানে দেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, কার্যকর সরকার ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল বিদ্যমান। তাই এখনই সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল অথবা যুগোপযোগী সংস্কারের উপযুক্ত সময়।”
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
১. বাংলাদেশের সরকারকে লিখিতভাবে সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল বা সংস্কারের দাবি জানানো হবে।
২. দেশের সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আইনজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৩. বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করে ৭০ ধারা বাতিলের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করা হবে।
৪. এ লক্ষ্যে দেশ ও বিদেশে মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ, আলোচনা সভা, মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ন্যূনতম সাংবিধানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গণতন্ত্রের প্রাণ হচ্ছে মতের ভিন্নতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং জনগণের স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন আন্তর্জাতিক “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ (কাতার)।

0 Comments